জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসানের নেতৃত্বে চার সদস্যের দলটি অনুমোদনের জন্য যায়। দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন— উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব।
এর আগে জাকসু নির্বাচন কমিশন কোষাধ্যক্ষ বরাবর ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার একটি খসড়া বাজেট জমা দেয়। পরবর্তীতে তা উপাচার্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) প্রেরণ করা হয়।
প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার ৯২৫ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় খাত হলো ভোটকেন্দ্র প্রস্তুতকরণ, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এছাড়া নির্বাচন কমিশন, সহায়ক দল, মনিটরিং ও ভোটার তালিকা প্রস্তুত বাবদ ব্যয় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং ব্যালট, প্রিন্টিং, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সম্মানী ও আপ্যায়নে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৩৩ লাখ ২৫ হাজার ৫০০ টাকা।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব জানান, চলতি অর্থবছরে জাকসু নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। তবে সম্প্রতি একটি বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ইউজিসি যদি অনুমোদন না দেয়, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফান্ড থেকে নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হবে। তবে এতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত, যেমন— জাকসু ভবন সংস্কারকাজে সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একসঙ্গে ছাত্র সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য মোট ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকার খসড়া বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বাজেট প্রস্তাব করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।
নির্বাচনী কমিশনের সদস্য অধ্যাপক লুৎফর এলাহি জানান, “দীর্ঘ ৩৩ বছর পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নতুন ভবন সংস্কার, ভোটকেন্দ্র স্থাপন এবং প্রার্থীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্যালট ও ব্যালট বক্স তৈরিতে অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজন পড়ছে।”
























