জাবি প্রতিনিধি:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী কম্পট্রোলার ফিরোজ আহমেদের ডিগ্রি জালিয়াতির অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটি তার জমা দেওয়া সনদগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে নতুন তথ্য পেয়েছে। বিশেষ করে পদোন্নতির জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় (তৎকালীন জগন্নাথ কলেজ) থেকে সান্ধ্যকালীন কোর্সে দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার সার্টিফিকেট জমা দিলেও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে এর কোন রেকর্ড নেই। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস জানিয়েছে, তাদের কাছে ফিরোজ আহমেদের তৃতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার রেকর্ড আছে। যা তদন্ত কমিটির সামনে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

এর আগে, ফিরোজ আহমেদ আমেরিকান ওয়াল্ড ইউনিভার্সিটি থেকে করা এমবিএর সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলেন পদোন্নতির জন্য। কিন্তু ইউজিসি ওই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুমোদন দেয়নি। তবুও বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন ওই সার্টিফিকেট আমলে নিয়েই পদোন্নতির সুপারিশ করে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে, ফিরোজ আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে তার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার সনদ আমলে নিতে আবেদন করেন।ফিরোজ আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ প্রশাসন শাখায় প্রথমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার সার্টিফিকেট জমা দেন। এরপর তিনি আবার দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন দাবি করে, দ্বিতীয় শ্রেণির সার্টিফিকেট জমা দেন।

এরমধ্যে ৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বিশেষ সিন্ডিকেট সভায়, ইউজিসির অনুমোদনবিহীন আমেরিকান ওয়াল্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে নেওয়া এমবিএ সনদ জমা দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জাবি প্রসাশন। কমিটির প্রধান করা হয়, উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ছালেহ আহাম্মদ খানকে।
কমিটিকে ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও পেরিয়ে গেছে প্রায় দুই মাস। এর মধ্যে ওই কমিটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছেও চিঠি পাঠায় তার সনদের সত্যতা যাচাই করতে। সেখানেই দেখা যায় বড় অসংগতি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিস জানায়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফিরোজ আহমেদের দ্বিতীয় শ্রেণির সনদ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। আমাদের রেকর্ডে তার দ্বিতীয় শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়ার কোনো তথ্য নেই। তিনি যদি দ্বিতীয় শ্রেণির সনদ জমা দিয়ে থাকেন, তবে সেটি জালিয়াতি করে দেওয়া।’
তবে তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চিঠির বিষয়ে এখন কিছু বলা যাচ্ছে না। সম্পূর্ণ স্বাধীন তদন্ত কাজ চলছে। আর ইউজিসিতে পাঠানো চিঠির উত্তর পেতে সময় লেগেছে। খুব দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
এদিকে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি হওয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে সাবেক ট্রেজারার রাশেদা আক্তারের আস্থাভাজন হওয়ায় তার প্রতি প্রশাসনের একটি নরম মনোভাব আছে বলে মনে করছেন অনেকে।
এদিকে নথি, স্বাক্ষর, বা অন্যান্য রেকর্ড জাল করার মাধ্যমে প্রতারণা করা দেশের আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম বলেন, এটি দণ্ডবিধির ৪৬৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধ। কেউ জালিয়াতি করলে তাকে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, আর্থিক জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার আইন আছে।
























