জাবি প্রতিনিধি :
সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাউলের দ্রোহ’ শিরোনামে আয়োজিত বিচারগানে ‘উচ্চ শব্দের’ অভিযোগ এনে বন্ধ করে দেওয়া হলেও গতকাল রাতে অনুষ্ঠিত কনসার্ট নিয়ে নিরব ছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শুধু তাই না, বামপন্থী শিক্ষার্থীদের সংগঠন কতৃক আয়োজিত বাউলের গানের আসর রাত ১০টার পর চলা নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান প্রক্টর অধ্যাপক এ.কে.এম. রাশিদুল আলমসহ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। যদিও চট্টগ্রাম জেলা সমিতি কর্তৃক আয়োজিত কনসার্ট চলছে রাত প্রায় দেড়টা পর্যন্ত। যেখানে উপস্থিত ছিলেন জাকসুর একাধিক নেতাসহ বাউল গানের আসর বন্ধে সমর্থন জানানো শিক্ষার্থীরাও।

রাত দশটার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করে সিন্ডিকেট। গত ১৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবিএম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে আবারও সেটি মনে করিয়ে দেওয়া হয়। বলা হয়, রাত দশটার পর অনুষ্ঠান চললে আয়োজকদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে শব্দ সহনীয় মাত্রায় রাখতেও নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এদিকে শীতের এই সময়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে থাকে পরিযায়ী পাখি। এছাড়া বিভিন্ন প্রাণীদের অভয়ারণ্য হিসেবেও গণ্য করা হয় এই ক্যাম্পাসকে। ফলে কনসার্ট, গানের আসর বা যেকোন শব্দ দূষণকে সব সময় নিরুৎসাহিত করেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া বছরের শেষ দিকে বিভিন্ন বিভাগের পরীক্ষা চলে। এরই প্রেক্ষাপটে সব দিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রাত দশটার পর সকল ধরনের অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ করে।

কিন্তু একপক্ষের ক্ষেত্রে সেই অফিস আদেশ সামনে এনে অনুষ্ঠান বন্ধ করা হলেও আরেক পক্ষের ক্ষেত্রে প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধু তাই না, ট্রান্সপোর্ট চত্বরে আয়োজিত বাউল গানের অতিরিক্ত শব্দে অতিথি পাখি চলে যাওয়া নিয়ে আওয়াজ তোলা শিক্ষার্থীকেও দেখা গেছে কনসার্ট উপভোগ করতে। এতে প্রশ্ন উঠেছে, নিজেদের মতের বিপক্ষে গেলে বন্ধ, আর পক্ষে গেলে সেখানে উপস্থিত হয়ে তার পক্ষে সাফাই গাওয়াই কি তাদের কাজ?
আর প্রশাসনের এমন দ্বিমুখী আচরণের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন নিজের ফেসবুক ওয়ালে লিখেন, ‘বাউল গান হইলে মাথা ব্যাথা করে, অতিথি পাখি চলে যায়, প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস হয়। আর কনসার্ট হইলে খুউউব আরাম। আবার মঞ্চে জিকিরও করে গেলো দেখলাম’।
এমন অবস্থায় চট্টগ্রাম জেলা সমিতির কনসার্টে ‘শব্দ দূষণ তুলনামূলক কম হয়েছে’ দাবি করে অনেকেই সেটার পক্ষে সাফাই গেয়েছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও প্রাণ প্রকৃতি নিয়ে কাজ করা অরিত্র সাত্তার বলেন, ট্রান্সপোর্টে আয়োজন করা বাউল গানের আসরের কারণে পাখি চলে যাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। কারণ, ওই লেকে এবার কোন পরিযায়ী পাখি আসেনি। আর যে কোন গানের আসর বা কনসার্টে শব্দ দূষণ হবেই। কোন প্রোগ্রামে কম হয়েছে বা কোন প্রোগ্রামে বেশি হয়েছে- এটি দিয়ে বিষয়টিকে স্বাভাবিক করার কোন সুযোগ নেই। শব্দ দূষণ না করে, স্বাভাবিক মাত্রায় রেখে কিভাবে অনুষ্ঠান করা যায়, সেদিকে আমাদের ঝুঁকতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার আজিজুর রহমান জানান, সিন্ডিকেটের ওই আদেশটি মাঠে বাস্তবায়ন করবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও প্রক্রিরিয়াল টিম। কোথাও নিয়মের কোন লংঘন হলে সে বিষয়টি তারাই দেখবে।
তবে প্রক্টর রাশিদুল আলমের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে নিষিদ্ধ সময়ে কিভাবে কনসার্ট হলো, সে বিষয়ে তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
























