জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রবিন হোসেন পরীক্ষার ফল টেম্পারিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন বিভাগের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন প্রভাষক আশীষ কুমার দত্ত ও অধ্যাপক কামরুল হাসান। গত ৯ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন তিনি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।চলতি বছরের ৫ মার্চ প্রকাশিত স্নাতক চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলে রবিন ‘রিসার্চ রিপোর্ট’ কোর্সে সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে মাত্র ২.০০ পান। পরে ১৩ মার্চ উপাচার্যের কাছে ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করেন তিনি। ওই আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তার গ্রেড কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১৪ এপ্রিল কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রবকে প্রধান করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। সদস্য হিসেবে ছিলেন ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. এমরান জাহান, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম এবং সদস্যসচিব হিসেবে ছিলেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসের সিস্টেম এনালিস্ট রেশাদ বিন কিবরীয়া।খাতা পুনঃনিরীক্ষার পর রবিনের সিজিপিএ ২.০০ থেকে বেড়ে ৩.২৫ হয়। এরপর তিনি অভিযোগ করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ডি গ্রেড দেওয়া হয়েছিল। রবিনের ভাষ্য, “আমার রিপোর্টের সেকেন্ড এক্সামিনার ছিলেন প্রভাষক আশীষ কুমার দত্ত। তিনি কম নম্বর দেওয়ার পর সেটি থার্ড এক্সামিনার অধ্যাপক কামরুল হাসানের কাছে যায়। দুজনেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার নম্বর কমিয়ে দেন।”তদন্ত কমিটির প্রধান অধ্যাপক আবদুর রব বলেন, “আমরা রিপোর্ট পুনঃনিরীক্ষা করেছি, এবং ফলাফল পরিবর্তন হয়েছে। এখন নতুন অভিযোগ জমা পড়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিবেচনা করছে।”প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মানছুরুল হক এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সোহেল আহমেদ বলেন, “উপাচার্য অভিযোগটি আমলে নিয়েছেন। বিষয়টি সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা হবে এবং সেখানেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
























