অপরাধ প্রতিবেদক–
এ যেন আলাদানির চেরাগ হাতে পেয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম। নবম গ্রেডে চাকরি করা এই কর্মকর্তা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। নিজের স্ত্রীর পাশাপাশি প্রেমিকার নামে কিনেছেন একাধিক ফ্ল্যাট। নিজের এলাকায় কিনেছেন ৬০ বিঘার মতো জমি। রয়েছে গাড়িও।
রাকিবুলের এলাকা, তার সহকর্মীসহ একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তার একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গাড়ি ও জমির দলিলের ছবি ও ভিডিও এই প্রতিবেদকের হাতেও এসেছে।
রাকিবুল সিরাজগঞ্জ জেলা শাহাজাদপুর উপজেলার খাষ সাতবাড়িয়া গ্রামের শাহাদত হোসেন ও রোকেয়া খাতুনের ছেলে। ডিপ্লোমা পাস করে চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই বেপরোয়া জীবনযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ।
চাকরির শুরু থেকেই তিনি বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ না করে ঠিকাদার চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অবৈধভাবে আয় করতে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ না করেই কাজের বিল উত্তোলন করে দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার। সরকারি কর্মকর্তা হয়েও এভাবে অর্থ আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য, বদলি বাণিজ্য, ঘুষ বাণিজ্য, কর ফাঁকিসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্ত্রী, পরিবার-পরিজনের নামে বেনামে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। তার সাবেক কর্মস্থলগুলোতেও খোঁজ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও অনিয়মের সত্যতা মিলেছে।
এই কর্মকতার অবৈধ সম্পদের হিসাব শুনলে অনেকের চোখ কপালে উঠে যাবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, রাকিবুল শেয়ারে বিনিয়োগ করেছেন ১ কোটি ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৭৭ টাকা। এফডিআরে বিনিয়োগ করেছেন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা। স্বর্ণের পরিমাণ ৭০ ভরি। তার আসবাবপত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ল্যাপটপ, ফ্রিজ ক্রয় করেছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ রয়েছে ৫৬ লাখ ৫০ হাজার ৮৯০ টাকা। তার ব্যাংকে জমা রয়েছে ১৬ লাখ ৩৬ হাজার ৩০৪ টাকা।
সম্পত্তি প্রদর্শন করেছেন ২ কোটি ৮১ লাখ ৮৩ হাজার ১৭১ টাকা। ঢাকার মোহাম্মদপুরে তার স্ত্রীর নামে একটি ৬ তলা আলিশান বাড়ি রয়েছে। উত্তরায় তার স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। নিজ থানায় ৬০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন এই কর্মকর্তা। রাকিবুলের স্ত্রীর নামে ৫০ লাখ টাকা দামের গাড়ি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে রাকিবুলের নামে বেনামে, তার স্ত্রীর নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে বেনামে কোটি কোটি টাকা জমা আছে। চাকরি জীবনের মাত্র ১৬ বছরে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন এই কর্মকর্তা। অভিযোগ রয়েছে গার্লফ্রেন্ডের নামেও রাকিবুল ইসলাম রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কিনেছেন আধুনিক ফ্ল্যাট।
রাকিবুল একসময় এলজিইডি কিশোরগঞ্জ জেলার সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। করিমগঞ্জ উপজেলায় ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাকিবুল বর্তমানে ঢাকার এলজিইডির আগারগাঁও প্রধান কার্যালয় কর্মরত আছেন।
মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা রাকিবুলের হঠৎ এমন বালিসী জীবনযাপন দেখে অবাক অনেকেই। সরকারি বিধিমতে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলীর যে বেতন স্কেল, তাতে মাঝারি মানের জীবনযাপন করা সম্ভব। কোটি কোটি টাকার অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক হওয়া অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাকিবুলের অনিয়ম, দুর্নীতি ও কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে বিভিন্ন দফতরে অভিযোগও জমা পড়েছে। অভিযোগের ফিরিস্তি জমা হচ্ছে এলজিআরডি উপদেষ্টা ও সচিবের দফতরে।
রাকিবুল ইসলাম আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগকে অর্থ সহায়তা দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বিপদে ফেলতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনার আমার অবৈধ সম্পদের তথ্য বা প্রমাণ পেলে নিউজ করেন।

























