পূর্ব আফগানিস্তানের পাহাড়ি জনপদে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১২ জনে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২ হাজার ৮০০ মানুষ। নিখোঁজ রয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ভেঙে পড়া ঘরের নিচে এখনও অনেকেই চাপা পড়ে আছেন, কেউ জীবিত আছেন কিনা তার নিশ্চয়তা নেই।
ধ্বংসস্তূপে জীবনের খোঁজ
স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানাচ্ছিলেন—
“আমার ঘর, পরিবার সব এক মুহূর্তে হারিয়ে ফেলেছি। বাচ্চাদের কান্না শোনা যাচ্ছে ধ্বংসস্তূপের নিচে, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারছি না।”
গ্রাম থেকে গ্রাম মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। যেসব বাড়িঘর একসময় জীবনযাপনের আশ্রয় ছিল, তা এখন শুধু ইট-পাথরের স্তূপ। স্কুল, মসজিদ, দোকান—কিছুই আর অক্ষত নেই।
আহত আর বেঁচে থাকা মানুষের আর্তনাদ
আহতদের অনেকেই এখনো যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছেন না। হাসপাতালে জায়গা নেই, ওষুধ নেই, চিকিৎসকও পর্যাপ্ত নয়। অনেকে গ্রামের খোলা মাঠে শুয়ে কাতরাচ্ছেন। আহত এক নারী বলেন—
“আমি আমার দুই ছেলেকে হারিয়েছি, স্বামী গুরুতর আহত। আমাদের সাহায্য করার কেউ নেই।”
উদ্ধারে সর্বাত্মক চেষ্টা
সেনা, স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো উদ্ধারকাজে নেমেছে। রাতদিন চলছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় রাস্তাঘাট ধসে পড়ায় উদ্ধারযান পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
সহায়তায় বাধা
জাতিসংঘ দ্রুত সহায়তা দিতে চাইছে। তবে কর্মকর্তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের বাজেট সংকোচনের কারণে জরুরি সহায়তায় জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষ যখন সবচেয়ে বেশি সাহায্য চাইছে, তখন তা পৌঁছানো কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
তালেবান সরকারের পদক্ষেপ
তালেবান সরকার ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১০ কোটি আফগানি সহায়তা ঘোষণার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় থেকেও সাহায্যের প্রতিশ্রুতি আসছে। তবুও মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতি এতই ভয়াবহ যে, এ সহায়তা মানুষের কান্না থামাতে পারছে না।
বেঁচে যাওয়া শিশুদের দুঃসহ বাস্তবতা
সবচেয়ে করুণ অবস্থা শিশুদের। যারা বাবা-মাকে হারিয়েছে, তাদের চোখে এখন ভরসাহীন আতঙ্ক। কেউ কেউ প্রতিবেশীর কাছে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু খাবার, বিশুদ্ধ পানি, উষ্ণ কাপড়—কিছুই পর্যাপ্ত নেই। সামনে শীত আসছে, আর তার আগেই যদি আন্তর্জাতিক সহায়তা না আসে, তবে নতুন করে প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হবে।
মানবতার পরীক্ষা
একজন বৃদ্ধ আফগান বলেন—
“আমরা দুনিয়ার কাছে রাজনীতি চাই না, শুধু চাই বাঁচার জন্য কিছু খাবার, মাথার ওপরে একটি ছাদ।”
এ ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল, যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান কতটা নাজুক অবস্থায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এটি কেবল একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং মানবতার পরীক্ষা।

























