জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত “লালন সন্ধ্যা” সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি ঘিরে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে—বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের এক নেতার অর্থায়নে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছে।গত ২৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে “লালন সন্ধ্যা” আয়োজন করে জাকসু। অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ। জাকসুর অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানটির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অনুদান সংগ্রহ করা হয়, যার মধ্যে অন্যতম ছিল “লিজেন্ড কেয়ার ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন কোচিং”।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক খন্দকার মামুন রেজা—যিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উপ-তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক।প্রথমে তৈরি করা ব্যানারে লিজেন্ড কেয়ারের নাম থাকলেও, জাকসুর কয়েকজন নেতৃবৃন্দের আপত্তিতে পরে তা সরিয়ে ফেলা হয়। যদিও ব্যানারে নাম না থাকলেও কোচিংটি থেকে নেওয়া ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনায় জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন না।
তবে সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “আমি ব্যক্তিগত কারণে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম না।”এ বিষয়ে সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব বলেন,“ছাত্রলীগের অনুদানে অনুষ্ঠান আয়োজন মানে তাদের পুনর্বাসন করা। আমি বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে বিরোধিতা করি। ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত কোনো কিছুতেই আপোষ করা হবে না।”জাকসু ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, “আমরা প্রথমে জানতাম না যে কোচিংটির মালিক ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। পরে জানতে পেরে তাদের নাম ও অংশগ্রহণ সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়। এখন কোনো ব্যানার বা প্রচারণায় লিজেন্ড কেয়ারের নাম নেই।”অভিযোগের বিষয়ে সাংস্কৃতিক সম্পাদক শেখ জিসান আহমেদ বলেন, “জাকসুর নিজস্ব কোনো তহবিল নেই, তাই আমরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে সহযোগিতা নিয়েছি। ফান্ডিংয়ের সময় আমরা জানতাম না প্রতিষ্ঠানটির প্রধান রাজনৈতিকভাবে কার সাথে যুক্ত। যেহেতু অফিসিয়াল ব্যানারে লিজেন্ড কেয়ারের নাম ব্যবহার করা হয়নি, তাই বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক।”
তবে শিক্ষার্থীদের একাংশ বলছেন, জাকসুর মতো নিরপেক্ষ সংগঠনের সাংস্কৃতিক আয়োজনে রাজনৈতিক সম্পৃক্ত অর্থায়ন গ্রহণ করা শিক্ষার্থীদের আস্থার প্রতি আঘাত হানে। তারা দাবি জানিয়েছেন, এমন বিতর্ক যেন ভবিষ্যতে আর না ঘটে।
























