জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি নতুন একাডেমিক সাবজেক্ট চালুর প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিবের বরাতে জানা গেছে, নতুন প্রস্তাবিত ইউনিটগুলো হলো—১) ইন্সটিটিউট ফর ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজি২) সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ৩) সেন্টার ফর পাপেট্রি অ্যান্ড ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনবিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে এ উদ্যোগ নিয়ে নানামুখী আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও অ্যালামনাই মনে করছেন, সাবজেক্টগুলো আদর্শগত ভারসাম্য রক্ষার প্রয়াসে আনা হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়োপযোগী প্রয়োজনের তুলনায় STEM ও মেডিকেল-সংক্রান্ত বিভাগগুলো অধিক জরুরি ছিল।বিশ্লেষকদের মতে,সেন্টার ফর পাপেট্রি—সংস্কৃতি ও সৃজনশীল গবেষণার অংশ হলেও বাস্তব চাহিদা বিবেচনায় এর অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড থিওলজি—ধর্মীয়-দর্শনভিত্তিক উচ্চতর গবেষণার সুযোগ বাড়াবে, তবে একাডেমিকভাবে বিতর্কিত অবস্থানেরও সম্ভাবনা রয়েছে।এশিয়ান স্টাডিজ সেন্টার—আঞ্চলিক রাজনীতি, অর্থনীতি ও সংস্কৃতি নিয়ে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করবে; যা আন্তর্জাতিকভাবে SOAS ধরনের মডেল অনুসরণ বলে অনেকে মনে করছেন।এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আরও প্রয়োজনীয় ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকেই। তারা বলছেন—১. মেডিকেল ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠা জরুরিবিশ্ববিদ্যালয়ের বিশমাইল এলাকায় পর্যাপ্ত খালি জায়গা থাকলেও এখনো মেডিকেল কলেজ বা পাবলিক হেলথ–নির্ভর কোনো ফ্যাকাল্টি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আসেনি। সাভার-আশুলিয়া দ্রুত শহরে পরিণত হলেও সরকারি মানের কোনো আধুনিক হাসপাতাল নেই। একটি মেডিকেল ফ্যাকাল্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজস্ব চিকিৎসা সুবিধাও পেতে পারতেন।২. পূর্ণাঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টি প্রয়োজনবর্তমানে জাবিতে শুধু সিএসই ও আইইটি থাকলেও মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, সিভিল, বায়োমেডিকেল, রোবোটিকস, নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বহুল চাহিদাসম্পন্ন বিভাগগুলো এখনো চালু হয়নি। গবেষণামুখী একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি বড় ঘাটতি বলে মনে করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।৩. কৃষি ও ভেটেরিনারি ফ্যাকাল্টির দাবিবিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই বিএলআরআইসহ বিশাল গবেষণাযোগ্য এলাকা থাকলেও কৃষি, ভেটেরিনারি বা ফিশারিজ বিভাগ খোলা হয়নি। এসব বিভাগ খুললে গবেষণা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ব্যাপকভাবে বাড়ত।শিক্ষার্থীরা বলছেন, সারা বিশ্ব যখন STEM, মেডিকেল ও এগ্রিকালচার–কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন জাবিতে এই সেক্টরগুলোতে স্থবিরতা দুঃখজনক। নতুন সাবজেক্ট চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন ও বাস্তব চাহিদাকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে।
























