রাজশাহী মহানগরীতে ১৬টি আদিবাসী পরিবারকে উচ্ছেদের ঘটনা ঘটেছে। বাড়ি ছাড়তে এজন্য তাদের আগামী রোববার পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী সাজ্জাদ আলী। ইতোমধ্যে তিনটি পরিবার অন্যত্র চলে গেছে।
অন্য পরিবারগুলোও চলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। উচ্ছেদের মাধ্যমে সাজ্জাদ আলী কয়েক কোটি টাকা দামের জমিটি দখলে নিয়েছেন। আদিবাসী পাড়াটি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের দুই নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়ায়। ৫৩ বছর আগে এখানে ১৬ কাঠা জমির ওপর বাড়ি করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ছয়টি পরিবার। তিন প্রজন্ম ছয়টি বাড়ি এখন ১৬টি হয়েছে। বসবাস করতেন শতাধিক মানুষ। উচ্ছেদের কারণে পরিবারগুলো নতুন করে কোথায় বাড়িঘর তৈরি করবে এ নিয়ে আছে চরম অনিশ্চতায়।
পাড়ার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবার ভারতে চলে যান। সে সময় ইন্দ্র ধুপি নামের একজন এখানে থেকে যান। তবে দু-এক বছর পর ইন্দ্র ধুপিও ভারতে চলে যাওয়ার আগে তাদের ১৬ কাঠা জমিতে ছয়টি পরিবারকে বাস করতে দেন। দীর্ঘদিন আদিবাসী পরিবারগুলো জমিটিতে বসবাস করলেও এর ওপর দৃষ্টি পড়ে সাজ্জাদ আলীর। গত তিন বছর থেকে সাজ্জাদ দাবি করছেন, ইন্দ্র ধুপি ভারতে যাওয়ার আগেই এই জমি তার কাছে বিক্রি করে গিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে গত দুই বছর আগে স্থানীয় কাউন্সিলরের কার্যালয়ে দুইপক্ষ বসেন।
এই মহল্লার বাসিন্দা মিশ্র রাম বর্মণ (৪০) জানান, বছর দুয়েক আগে সাজ্জাদ আলী তাদের বাড়ি ছাড়তে বললে তৎকালীন ওয়ার্ড কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম দুপক্ষকে নিয়ে বসেছিলেন। সেখানে সাজ্জাদ আলীর কাগজপত্র দেখে কাউন্সিলর বলেছিলেন, এই দলিল জাল। তখন কৌশলে কাউন্সিলরের কার্যালয় থেকে পালিয়ে যান সাজ্জাদ। এরপর তাদের আর উচ্ছেদের চেষ্টা করা হয়নি।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর সাজ্জাদ এসে আবার সবাইকে ঘর ছাড়তে বলেন। আদিবাসীরা বাড়ি ছাড়তে না চাইলে একপর্যায়ে প্রথম বাড়ি করা ছয়টি পরিবারকে সামান্য টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেন সাজ্জাদ। মিশ্র রাম বর্মণ বলেন, পরিস্থিতি এমন যে আমরা কারও কাছে যেতে পারছি না। কাউন্সিলরও নেই।
জানতে চাইলে সাজ্জাদ আলী বলেন, ‘এ জায়গা আমি কিনেছি। কেনার সময়ই কয়েকটা ঘর ছিল। এখন তাদের আমি পুনর্বাসন করার চেষ্টা করছি। কিছু টাকাও দিয়েছি। এতদিন পর তারা চলে যাবে, এজন্য শুক্রবার একটা খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করেছি। আমি কাউকে কষ্ট দিচ্ছি না। জোর করে উচ্ছেদও করছি না। সুন্দরভাবেই বিদায় দিচ্ছি।’ কত সালে জমি কিনেছেন, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এটা এখন মনে নেই।’
বিষয়টি নিয়ে সাবেক কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তবে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার ওসি আজিজুল বারী বলেন, এরকম কোনো বিষয় আমাকে কেউ জানায়নি। অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ করা হলে আদিবাসীরা অভিযোগ করতে পারেন। আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।

























