রাজধানীর ব্যস্ত গুলিস্তান এলাকার পাশে ঢাকার অন্যতম সবুজ এলাকা ওসমানী উদ্যানে শুরু হয়েছে নতুন একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ প্রকল্প। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ৯০ ফুট উঁচু এই স্তম্ভ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।এরই মধ্যে পাইলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী রোববার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে যে স্থানটিতে স্মৃতিস্তম্ভটি নির্মিত হচ্ছে, সেটি পূর্বে শিশুদের খেলার জায়গা হিসেবে নির্ধারিত ছিল। ফলে পার্কের সবুজ অংশের বড় একটি অংশ নষ্ট হচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবেশবাদীরা।
ওসমানী উদ্যানকে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার ‘ফুসফুস’ বলা হয়ে থাকে। এর আয়তন প্রায় ২১.৮৫ একর, যেখানে অসংখ্য গাছ ও দুটি জলাশয় রয়েছে। পূর্বে নানা উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে উদ্যানটির উল্লেখযোগ্য অংশ কংক্রিটে ঢেকে গেছে, যা এখন আরও সংকুচিত হচ্ছে নতুন স্থাপনা নির্মাণে।বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং নগর পরিকল্পনাবিদদের সংগঠন বিআইপি–র বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইন অনুযায়ী পার্কের সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ অংশে স্থাপনা নির্মাণ করা যায়, অথচ ওসমানী উদ্যানে ইতিমধ্যে তার চেয়ে বেশি অংশে নির্মাণ হয়ে গেছে। নতুন স্থাপনা তৈরি হলে অবশিষ্ট সবুজ স্থানটুকুও হারিয়ে যাবে।
পরিবেশবিদ রফিক আজম বলেন, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে স্মৃতিস্তম্ভ করা গুরুত্বপূর্ণ, তবে তা এমনভাবে করা উচিত যেন পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বিদ্যমান ভবনের ভেতরে জাদুঘর করে জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের স্মৃতি সংরক্ষণ করা সম্ভব।”অন্যদিকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জানান, স্মৃতিস্তম্ভের নকশা সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং অনুমোদনের পর পূর্ণাঙ্গ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।পরিবেশবাদীরা বলছেন, “যে উদ্যানে একসময় ১১ হাজার গাছ রক্ষায় আন্দোলন হয়েছিল, সেখানে আবারও সবুজ ধ্বংসের নতুন ইতিহাস রচিত হচ্ছে।”

























