অনলাইন কেনাকাটার যুগে ডেলিভারি নিয়ে ঝামেলা এখন অতীত। গ্রাহক যখন বাসায় নেই, ডেলিভারিম্যান ফেরত চলে যান—এই সমস্যার সমাধান এসেছে ডিজিটাল লকার সেবার মাধ্যমে। রাজধানীসহ দেশের ৫৫টি স্থানে এখন অনলাইন পণ্যের নিরাপদ ডেলিভারি দিচ্ছে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান ডিজিবক্স।শেখেরটেকের বাসিন্দা তালহা জুবায়ের প্রায়ই অনলাইনে কেনাকাটা করেন। আগে ডেলিভারিম্যান আসার সময় তিনি না থাকলে পণ্য ফেরত যেত। এখন তিনি নির্ভর করেন ডিজিবক্সের ডিজিটাল লকারে, যেখানে পণ্য রাখা হয় নিরাপদে এবং সংগ্রহ করা যায় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে।ডিজিবক্সের মাধ্যমে ডেলিভারি খরচও কমেছে অর্ধেকের বেশি। প্রচলিতভাবে ৭০ থেকে ১১০ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও, এই লকার সিস্টেমে খরচ মাত্র ২২ থেকে ৪৫ টাকা।
নিরাপত্তার জন্য রয়েছে টু–ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন কোড ও ওটিপি সিস্টেম।কোথায় এই সেবা মিলবে?বর্তমানে ঢাকাসহ দেশের পাঁচটি বড় শহরে ডিজিবক্সের ৫৫টি লকার স্টেশন চালু রয়েছে। শুধু ঢাকাতেই আছে ৩৬টি পয়েন্ট—মেট্রোরেল স্টেশন, আইসিটি ভবন, গুলশান–২, মোহাম্মদপুর, পূর্বাচল, জিগাতলা ও তেজগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায়।চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ হোটেলসহ রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া ও সিলেটেও লকার চালু হয়েছে।প্রতিদিন একটি লকার পয়েন্ট থেকে গড়ে ৩০০ জন গ্রাহক পণ্য সংগ্রহ করছেন। ইতিমধ্যে দারাজ বাংলাদেশ ও ১০০০ ফিক্স সার্ভিস এই সেবা ব্যবহার করছে।কীভাবে কাজ করে?অর্ডার করার সময় গ্রাহক যদি “DIGIBOX” নির্বাচন করেন, ডেলিভারিম্যান পণ্যটি গ্রাহকের নিকটস্থ লকারে রেখে যায়। এরপর গ্রাহক মোবাইল বা ই–মেইলে একটি ওটিপি কোড বা কিউআর কোড পান। সেই কোড প্রবেশ করালেই নির্দিষ্ট লকার খুলে যায়, এবং পণ্য সংগ্রহ করা যায়।দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি স্মার্ট সেবাএই লকার সিস্টেম পুরোপুরি বাংলাদেশে তৈরি। এতে ব্যবহৃত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও ইন্টারনেট অব থিংস (IoT) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে গ্রাহকের পণ্য শনাক্তকরণ, সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়।ডিজিবক্সের চেয়ারম্যান মোরশেদুল আলম বলেন,“আমাদের এই সেবার মাধ্যমে ডেলিভারি চার্জ ও সময় দুই–ই কমেছে। আগামী দুই বছরে আমরা লকার সংখ্যা বাড়িয়ে ২৫ হাজারে নিতে চাই।”প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানুল হক জানান,> “ডিসেম্বরে আমরা ‘বক্স টু বক্স’ সেবা চালু করছি, যাতে একজন গ্রাহক অন্য লকারে পণ্য পাঠাতে পারবেন। এটি হবে বাংলাদেশের লজিস্টিক খাতে নতুন মাইলফলক।”
দারাজের গ্রিন লজিস্টিকস উদ্যোগবর্তমানে দারাজ বাংলাদেশ ডিজিবক্সের ৩৩টি লকার ব্যবহার করছে—এর মধ্যে ২৯টি ঢাকায়, বাকি চারটি রাজশাহী, রংপুর, বগুড়া ও চট্টগ্রামে। দারাজের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ এইচ এম হাসিনুল কুদ্দুস বলেন, “ডিজিবক্স ভবিষ্যতে গ্রিন লজিস্টিকস সমাধান হিসেবে কাজ করবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্ক এলাকায়ও এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি।”স্মার্ট সার্ভিসিংয়ে ‘১০০০ ফিক্স’ইলেকট্রনিক পণ্য সার্ভিসিং প্রতিষ্ঠান ১০০০ ফিক্স তাদের মোবাইল ও ল্যাপটপ সার্ভিসেও ডিজিবক্স ব্যবহার করছে। শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, মতিঝিল ও ফার্মগেট মেট্রোস্টেশনে এই লকারের মাধ্যমে গ্রাহক পণ্য জমা ও সংগ্রহ করতে পারেন।ডেলিভারির নতুন যুগে বাংলাদেশডিজিবক্সের স্মার্ট ডেলিভারি লকার শুধু সময় ও খরচ কমাচ্ছে না—এটি বাংলাদেশের ই–কমার্স খাতকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তুলছে। আগামীতে এই উদ্যোগ দেশের প্রতিটি শহরে ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছে উদ্যোক্তারা।
























