জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক দুটি নিয়োগ ঘিরে স্বচ্ছতা ও নিয়ম মানা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি (শিক্ষা) তার মেয়েকে এবং ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর তার ভাতিজাকে নিয়োগ দিয়েছেন।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমানের মেয়ে শিফাত আল-দ্বীনকে রিসার্চ ইনোভেশন সেন্টারে (রিক) অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যে প্রকল্পের মেয়াদ আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এটি মূলত বিশ্বব্যাংকের প্রকল্প। বাংলাদেশে গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও উৎসাহিত করে, নতুন প্রযুক্তি ও একাডেমিক খাতকে উন্নত করা এবং তরুণদের দক্ষ করে তুলতে এ প্রকল্পটি হাতে নেয় বিশ্বব্যাংক। আর জাবিতে এ প্রকল্পের সভাপতি হিসেবে আছেন অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান আর পরিচালক হিসেবে আছেন ফার্মেসী বিভাগের অধ্যাপক ড. মাসুম শাহরিয়ার।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, সভাপতি থাকার কারণে অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান সবার মতকে উপেক্ষা করে তার মেয়েকে প্রকল্পে চাকরি পাইয়ে দেন। অভিযোগ আছে, দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রো-ভিসির মেয়ের নিয়োগ হলেও তিনি চাপের মধ্যে কাজ করতে পারেন না। ফলে কখনো কখনো গবেষকদের তাদের কাজ ফেলে দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হয়। এতে ক্ষতি হয় গবেষণায়।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, রিসার্চ ইনোভেশন সেন্টারটি একটি বিশ্বব্যাংক অর্থায়িত প্রকল্প। প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী তিনটি সিভি থেকে একজনকে বাছাই করে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তার ভাষ্য, যোগ্য প্রার্থীর অভাবে প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাই মেয়েকে তার আগের চাকরি থেকে দ্রুত ছাড়িয়ে এনে এখানে যোগদান করানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, তার মেয়ে একা এই প্রকল্পে কাজ করছেন না; অনুসন্ধান করলে দেখা যাবে, প্রকল্পে আরও একাধিক শিক্ষকের স্বজন কাজ করছেন।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রবের ভাতিজা আদনানের একই প্রকল্পে অফিসার হিসেবে নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ট্রেজারার আব্দুর রব প্রশাসনে যোগদানের পরই তার ভাতিজাকে বিশ্বব্যাংকের এই প্রকল্প অফিসে নিয়োগ দেন। জানা যায়, আদনান আগে বেসরকারি কোম্পানি বেক্সিমকোতে চাকরি করতেন। সেই চাকরি ছেড়ে তিনি জাবির এই প্রকল্পে যোগ দেন।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক আব্দুর রবের সাথে কথা বলতে তার মুঠোফোনে কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।
এমন অবস্থায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নীতিমালা ও স্বচ্ছতা কতটা মানা হয়েছে- এ নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মহলে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
























