জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পুরো ক্যাম্পাস এখন উৎসবমুখর। তবে এই নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তাবিত বিপুল অঙ্কের বাজেট ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, সিসিটিভি স্থাপন,ল্যাপটপ কেনা, গাড়ি ভাড়া, আপ্যায়ন ও বিবিধ খাতে ব্যয়ের যৌক্তিকতা খোলাসা করা জরুরি।
ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের জন্য খসড়া বাজেট প্রস্তুত করা হয়েছে মোট ২ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ, ১ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা, বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য।
বাজেটে বিতর্কিত খাত
বাজেটের খাতগুলো বিশ্লেষণ করলে একাধিক ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ৮ লাখ ৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫টি ম্যাকবুক কেনার প্রস্তাব। শুধুমাত্র ভোট গ্রহণ ও গণনার কাজে এত ব্যয়বহুল ল্যাপটপ কেন প্রয়োজন—সেই প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
এছাড়া, নির্বাচনের দিনে চার বেলা খাবারের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার টাকা। মাত্র দুই দিনের জন্য মাইক্রোবাস ও পিকআপ ভ্যান ভাড়া ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। ব্যালট বাক্স পরিবহনে গাড়ি ভাড়া বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ক্যামেরা ও মনিটর বসাতে প্রস্তাব করা হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
আরও রয়েছে— ২১টি হলে দুটি নির্বাচনী প্রচারণার বোর্ড বসাতে ৩ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ভোটের বুথ স্থাপন বাবদ ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। আচরণবিধি ছাপাতে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। স্টেশনারি আইটেম বাবদ ১ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। নমিনেশন ফর্ম বাবদ ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। প্রিন্টার-কলম-প্যাড কিনতে ১ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। ভোটার ও সংশ্লিষ্টদের আইডি কার্ড ও প্রিন্টার কেনায় ১ লাখ ২ হাজার টাকা। বিবিধ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ লাখ টাকা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান ল্যাপটপ, স্টেশনারি ও অন্যান্য সামগ্রী দিয়েই নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব। অপ্রয়োজনীয় খাতে অতিরিক্ত ব্যয় কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রব বলেন,
“নির্বাচন আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন। তাদের চাহিদার ভিত্তিতে বাজেট প্রস্তাব আমরা ইউজিসিতে পাঠিয়েছি, সরকারের অন্যান্য মহলেও পাঠিয়েছি। খুব বেশি নয়, যৌক্তিক চাহিদা অনুযায়ীই অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।”
অন্যদিকে, জাকসুর সদস্য সচিব একেএম রাশিদুল আলম বাজেট প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ভিপি প্রার্থী মাহফুজ ইসলাম মেঘ বলেন, এই নির্বাচন কমিশন এই টাকা কিভাবে কোথায় খরচ করেছেন জানিনা আসলে। অনেক দিন পর জাকসু করছেন দেখে হয়তো খরচ কোথায় কিভাবে হতে পারে এটা নিয়ে আমাদের স্যারদের কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। এজন্য এক কোটি ৩২ লাখ টাকার বাজেটের করার পরও তাদের ডোপ টেস্টের জন্য আলাদা বাজেট রাখার খেয়াল ছিল না, এই বিশাল বাজেটের কোনো অংশ প্রার্থীদেরকে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করার জন্য নাই, একটা প্রেসিডেন্সিয়াল ডিবেট আয়োজনের বাজেট নাই এখানে, একটা কেন্দ্রিয়ভাবে সভা বা সমাবেশের বাজেট নাই এখানে।
তবে, আমাদের ভাগ্য ভাল, যে এগুলা তারা মাথায় রাখেন নাই, তাহলে দেখা যেত এতো সব আয়োজন করার সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে তারা কোনো সুপার কম্পিউটার কেনার বাজেটও যুক্ত করে দিতেন। সেটা চালানোর জন্য আবার লোক আনতে হতো, তাদের আবার বেতন দেয়ার বাজেট করতে হতো, সাথে ৪ বেলার খাবারের বিল।
উৎসবমুখর পরিবেশে জাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি চললেও এখন বাজেটের অঙ্ক ও ব্যয়ের ধরণই বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে।
























