জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচারকাজ ১৪ মাসেও অগ্রগতি পায়নি। একই ঘটনার দায়ে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিলেও শিক্ষকদের বিচার প্রক্রিয়া আটকে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠনের নেতারা। তাদের আশঙ্কা, বিচারকাজ দীর্ঘায়িত হতে হতে একসময় থেমে যাবে।বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ ও ১৫ জুলাই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় ২৮৯ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মীকে অভিযুক্ত করে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে ১৭ মার্চ সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একইসঙ্গে মোট ১৯ শিক্ষককে অভিযুক্ত করে আলাদা স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়। এদের মধ্যে ৯ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে আট মাস পেরিয়ে গেলেও এসব কমিটির কোনো প্রতিবেদন জমা পড়েনি। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা—২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়েও বিচার সম্পন্ন নাও হতে পারে।সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ৯ জন শিক্ষক হলেন:মো. মোস্তফা ফিরোজ (সাবেক উপ-উপাচার্য শিক্ষা), আলমগীর কবির (সাবেক প্রক্টর), ইস্রাফিল আহমেদ রঙ্গন (নাটক ও নাট্যতত্ত্ব), মেহেদী ইকবাল (ভূগোল ও পরিবেশ), বশির আহমেদ (সমাজবিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন), আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান (সরকার ও রাজনীতি), হোসনে আরা (ইতিহাস), নাজমুল হোসেন তালুকদার (বাংলা) এবং তাজউদ্দীন শিকদার (পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস)।এ ছাড়া আরও ১০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সংশ্লিষ্টতার মাত্রা বিবেচনায় স্ট্রাকচার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন কানন কুমার সেন, পলাশ সাহা, শফি মোহাম্মদ তারেক, জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মনির উদ্দিন শিকদার, মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান, আনোয়ার খসরু পারভেজ, মহিবুর রৌফ শৈবাল এবং এ এ মামুন।এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “১৯ শিক্ষক মানে ১৯টি কমিটি; সব সভা একসঙ্গে করা যায় না। শিক্ষার্থীদের বিচার আমরা করেছি, শিক্ষকদের বিচারও করব। আগামী বছরের মার্চের মধ্যেই বিচার শেষ করার আশা করছি।”
























