চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পরীক্ষায় নকলের সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে শিক্ষার্থীপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং প্রক্সি পরীক্ষার সুযোগের জন্য পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করতেন।এক অবসরপ্রাপ্ত অফিস সহায়ক সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ে অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের অনুলিপি শিক্ষা উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।অভিযোগে বলা হয়, মনিরুল ইসলাম কলেজ ফান্ডের তিন কোটি টাকাসহ মোট ১৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। তিনি শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ গ্রহণ, টেন্ডারবিহীন নির্মাণ, কলেজের জমি ও বাগান লিজের অর্থ আত্মসাৎ, এবং সনদপত্র ও ফি বাবদ অতিরিক্ত অর্থ আদায়সহ অসংখ্য অনিয়মের সঙ্গে জড়িত।এছাড়া, জাতীয়করণের সময় ছয়জন শিক্ষক ও নয়জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তিনজন ভুয়া কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তিনি আরও ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, কলেজের অবকাঠামোগত কাজ যেমন প্রাচীর, ছাত্রাবাস, ক্যান্টিন ও ভাস্কর্য নির্মাণ—সবই টেন্ডার ছাড়াই করে কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তিনি।দুর্নীতির মাধ্যমে এক দশকের মধ্যেই অধ্যক্ষ মনিরুল রাজশাহীতে তিনটি বাড়ি, জমি ও বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভোলাহাটের সোনালী ব্যাংকে তার পরিবারের নামে নিয়মিত ডিপিএস জমা দেওয়া এবং পোস্ট অফিসে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়ও পাওয়া গেছে।
তবে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমি কোনো অবৈধ সম্পদের মালিক নই। সবকিছু আইনি ও নিয়মমাফিক করেছি।”স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
























