সাভার প্রতিনিধি:
সাভারের হেমায়েতপুরে জামায়াতের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে মারধরসহ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোশারফ হোসেন মোশা’র ছোট ভাই শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এতে তিন জামায়াত কর্মী আহত হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ভাঙ্গা ব্রিজ এলাকার আল-আকসা মসজিদের পাশে মোয়াজ্জিন নাসিরউদ্দিনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, মেডিকেল ক্যাম্প করায় মৃত শাহজাহান ব্যাপারীর ছেলে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মোশা’র ছোট ভাই ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এসময় দোকান ভাংচুরসহ নগদ টাকা, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য মালামালসহ প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
হামলায় জামায়াত কর্মী মনির হোসেন (৩৫), মসজিদের মোয়াজ্জিন নাসিরউদ্দিন (৪৫) ও জোবায়ের হোসেন (২৫) আহত হয়। পরে এলাকাবাসীরা আহতদেরকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এদিকে বিএনপি নেতার ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা চালানোয় আশপাশে সাধারণ জনগণ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর আগেও একাধিক হামলার ঘটনায় শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হলেও সে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমানের অনুসারী হওয়ায় পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের সেক্রেটারী আমিরুল ইসলাম জানান, গত মাসের ২৮ নভেম্বর জামায়াতের উদ্যোগে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের হেমায়েতপুরের প্রভাতি একাডেমী মাঠে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করায় শরিফউদ্দিনের নেতৃত্বে একই কায়দায় হামলা ও দোকান ভাংচুর করা হয়। আজও তারা জামায়াত কর্মী মনির হোসেনকে কেন জাময়াতের পক্ষ থেকে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প করা হয়েছে- বলেই হামলা এবং মারধর শুরু করেন।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে হেমায়েতপুরের তেঁতুলঝোড়া এলাকায় বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন মুশা, তার ভাই শরিফুল ইসলামসহ ৫ ভাইয়ের নেতৃত্বে একাধিক সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্ম করে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ একাধিক মামলা থাকার পরেও প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণে তারা আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
তবে হামলার ও লুটপাটের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শরিফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সাভার মডেল থানার (ওসি) তদন্ত মো. হেলাল উদ্দিন জানান, সন্ত্রাসী হামলার বিষয়ে অভিযোগ পেলে সে যেই দলের হোক না কেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
























